Yahoo! Services

New User? Sign Up Sign In Help

Yahoo! Search

হারাকিরি

উল্লেখ‍্যঃ রুপালী কিবোর্ডে লিখছি। ইউডিটে অভ‍্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু অামার ম্যাকে কিছুতেই জিনিসটাকে কাজ করাতে পারলাম না। অতএব। লেখার গতি খুবই কম।

মাসাকি কোবায়াশি-র হারাকিরি ছবিটি অনেকদিন যাবতই দেখব-দেখব করছি, দেখা হচ্ছিল না। কয়েকদিন অাগে সময় বের করে দেখেই ফেললা‍্ম।এই ছবিটির একটি স্পষ্ট বক্তব্য অাছে -- ছবির শুরুতেই তা স্পষ্ট এবং পরের দুঘণ্টা দশ মিনিটে কখনই গোপন নয়। সমাজ, সংস্কার বা গুরুত্বপূর্র্ণ ব্যক্তির ‘ভাবমূর্তি‘ রক্ষা করার প্রচেষ্টা অমানবিকতার জন্ম দিতে পারে, এটাই একটানা, ধীর, ক্ষমাহীন ভঙ্গীতে বলে গেছেন কোবায়াশি।

এ ধরণের ছবি ‘মুই কি হনুরে‘ ভাবের কারণে বিরক্তি উৎপাদন করতে পারে। হারাকিরি অবশ্য অসাধারণ। এর কারণঃ এক, কোবায়াশির চিত্রকল্পের সামুরাই-সুক্ষ্মতা। দুই, এই থীমের জন্য হারাকিরি কণ্টকিত মধ্যযুগীয় জাপানের চেয়ে ভাল পটভূমিকা হতেই পারেনা, সামুরাই হারাকিরি করতেন সাধারণত সম্মান রক্ষার জন্যই।

said 7 weeks ago Report Abuse · Permalink · 2 Comments

চিন্তাবাষ্প

মেরিল লিঞ্চের সাথে আমাদের ফুটবল খেলা ছিল। বিস্ময়বিহ্বল চিত্তে খেলতে গেলাম, কারণ আমার ধারণা ছিল কোম্পানীটি কিছুদিন আগে লোপ পেয়েছে। ঠিক করেছিলেম, এ নিয়ে তাদেরকে একটু স্লেজিং করব, কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পর তারা এমন দৌড়াদৌড়ি শুরু করল যে জিভ স্মেজিং এর কাজে ব্যবহার করা যায়নি, বের করে রাখতে হয়েছে। ৭-৫ গোলে হেরে হাঁপাতে হাঁপাতে বেরিয়ে এসে একটি টেক্স-মেক্স খাবারের দোকানে ঢুকলাম।

দোকানে প্রচণ্ড গরম, দু-দুটো ফ্যান ঘুরেও কিছুতে কায়দা করতে পারছেনা। দোকানে কোন খদ্দের নেই, আর দোকান চালাচ্ছে যারা তারা সবাই চীনে। টেক্স-মেক্স খাবার যেহেতু মেক্সিকো এবং তার লাগোয়া টেক্সাসের খাবারের সমন্বয়, কাজেই এই চীনেদের দেখে কিছুটা অবাক হলাম, ক্লান্ত এবং আক্ষরিক অর্থেই উত্তপ্ত মস্তিষ্কে নিম্নলিখিত চিন্তাগুলি ভেসে বেড়াতে লাগল --

১. চীনেরা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। টেক্স-মেক্স এর দোকান এরা চালাচ্ছে কেন?
২. কি খাওয়া যায়?
৩. এদের কি কোন সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্রও নেই? একদম সাধারণ একটা টেক্স-মেক্স এর দোকান করে রেখেছে, একটু চীনে ছোঁয়া থাকলেও তো হত!
৪. খাব কি? চীনে চা কি পাওয়া যাবে? মনে হয়না -- যা ভেবেছিলাম, ব্যক্তিত্বহীন দোকান। বুরিতো খাই বরং।

জিজ্ঞেস করলাম "সব্জির বুরিতো আছে নাকি?" সামনে দাঁড়ানো ভদ্রমহিলা আঙুল দিয়ে কাগজে ছাপানো একটা মেনুতে দেখিয়ে দিলেন, সবজি বুরিতো আছে। সেটা অর্ডার দিয়ে সেই "সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র"-এর ব্যাপারটাই আবার ভাবছি দেখি পাশে একটা বড় অ্যাকোরিয়ামে কিছু লাল মাছ ঘোরাফেরা করছে। চীনে রেস্টুরেন্টে প্রায়শই অ্যাকোরিয়ামে থাকে, এবং সম্পর্কটি গভীর বলেই আমার সন্দেহ, কারণ অ্যাকোরিয়ামের সাথে চীনে বাগানের মিলটা চোখে পড়ার মত। এটা চোখে পড়ার পর একটু লজ্জিত হাসি হেসে বাড়িয়ে দেয়া বুরিতো-টি হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসলাম, আমার অবান্তর হাসিতে অবাক হয়ে ভদ্রমহিলা তাকিয়ে রইলেন।

প্রচুর ব্রকলি দেয়া বুরিতোটি চিবাতে চিবাতে একটা "সাউথ ইন্ডিয়ান কোশার" দোকানের নিচ দিয়ে হেঁটে চলে আসলাম। খেতে জঘন্য লাগল।

said 3 months ago Report Abuse · Permalink · 2 Comments

নিকোলাস কে রে?

প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক নিকোলাস রে-এর ব্যাপারটা বিভ্রান্তিকর।

কিছুদিন আগে উত্তর নিউইয়র্কে রুশ পরিচালক আন্দ্রেই তারকভস্কির ছবিগুলির একটা রেট্রোস্পেকটিভ হচ্ছিল। আমার এক ফিল্ম নির্মাতা বন্ধু আছে, তার সাথে ফিল্ম রুচির বেশ খানিকটা বেমিল থাকা সত্বেও তাকে জানালাম সেটা। কথাটা শুনে তাকে বেশ বিরক্ত মনে হল, তারকভস্কি সহ সোভিয়েত সিনেমার ব্যাপারে তার একগাদা নিন্দাসূচক কথাবার্তা শোনবার পর ছবিগুলি দেখতে আমাকে একাই যেতে হয়েছে। সেই উত্সবটি শেষ হওয়ার পর ভাবছি কিছুদিন বোধহয় শহরের চলচ্চিত্র পরিবেশ একটু ঠাণ্ডা যাবে -- এর মধ্যে দক্ষিণ নিউইয়র্কে শুরু হল নিকোলাস রে চলচ্চিত্র উত্সব। আমার বন্ধুকে সেটা জানাতে সে জিজ্ঞেস করল "কে নিকোলাস রে?" তারকভস্কি তার অপছন্দের হতে পারে, কিন্তু রে অজানা।

নিকোলাস রে-কে অনেকেই সম্পূর্ণ বৈশিষ্টহীন পরিচালক মনে করেন, সেটা আগেও দেখেছি। অন্য দিকে, কারো কারো মতে, রে হচ্ছেন হলিউডের একটা বিশেষ সময় ও মেজাজের তুলনাহীন শিল্পী। অতএব, সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত অবস্থায় দেখতে গেলাম রে-এর ১৯৫০ সালের ছবি একাকী -- আমার দেখা তাঁর প্রথম ছবি। মূল চরিত্রে কাসাব্লাংকা-খ্যাত হামফ্রে বোগার্ট। সিনেমা হল লোকে লোকারণ্য, একদম সামনের দিকের একটা ফাঁকা সীট দেখে বসে পড়েও রক্ষা নেই, সিনেমা শুরু হওয়ার আগে মিনিট দশেক অনবরত ব্যয়ামের ভঙ্গিতে ওঠ-বস করতে লাগলাম -- কারণ একদঙ্গল মেয়ে একসাথে বসবার জায়গা না পেয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে বসেও ঠিক শান্তি পাচ্ছেনা, বারবার সীট পরিবর্তন করছে, আর তাদের ঢোকবার বেরোবার সময় জায়গা দেবার জন্য লাইনশুদ্ধ লোকের সাথে আমাকেও পিটি করে যেতে হচ্ছে। ছবিটা অবশ্য চমত্কার লাগল। প্রথম দিকটা বেশ হাসির -- তুলনাহীন ডায়গল -- আবার ও সময়কার হলিউড আর বোগার্টের প্রাক্তন-সৈনিক-এখন-চিত্রনাট্যকার চরিত্রের পোড়-খাওয়া, হিংস্রতার ছোঁয়া লাগানো মনের পরিচয়ও দেয়া হয়ে গেল। বোগার্টের অভিনয় অসাধারণ, এই বিশেষ চরিত্রের করবার জন্য ভদ্রলোক দারুণ রকম মানানসই, এমনকি তাঁর দাঁতের ফাঁক পর্যন্ত তার হাসিকে একটা কেঠো, ক্লান্ত কিন্তু আক্রমণাত্মক ভঙ্গি দিয়েছে। তবে নায়িকার বাজে অভিনয়, এবং ফিল্মের শেষ দিকে কিছু দুর্বল ডায়লগ ও চরিত্র-চিত্রণের কারণে নিকোলাস রে সম্বন্ধে কোন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত এখনও নিয়ে উঠতে পারিনি। দেখা যাক, আগামী দুসপ্তাহে কি হয়!

said 3 months ago Report Abuse · Permalink · 0 Comments

মেইনে মোচ্ছব ১

টাকা পয়সায় কুলালে মার্কিনীরা দেশের ভেতরে-বাইরে পর্যটনে অত্যন্তই আগ্রহী। এসব ভাবি পর্যটকদের টেনে আনবার জন্য নিউ-ইযর্কের রাস্তা-ঘাটে-বাসে-ট্রেনে অসংখ্য পর্যটন বিজ্ঞাপন -- ভারত-ব্রাজিল থেকে শুরু করে ক্যারিবিয়ানের ক্ষুদ্র দ্বীপ -- এ সব জায়গাতেই যাওয়াটা যে কি ভীষণ জরুরী, এবং সেখানকার বাসিন্দারা কিভাবে পর্যটক দেখামাত্র তাদেরকে নিজের পরিবারের (ধনাঢ্য) সদস্যের মত আপন করে নেবে -- এসব তথ্যই সেখানে মেলে। অন্য দেশ শুধু নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নানান প্রদেশ ও শহরের পর্যটন-বিজ্ঞাপনও দেখা যায়। এর মধ্যে মেইন নামে আমেরিকার একদম উত্তর-পূব কোনে যে প্রদেশ, তার একটা বিজ্ঞাপন আমার মনে ধরেছিল। দাঁত-ফোকলা কম বয়েসী একটি মেয়ে একটা মাছ ধরা নৌকোর ওপর দাঁড়িয়ে। হাসি মুখে সে দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর দুহাতে ধরে রেখেছে এত বড় একটা লবস্টার -- হাত খানেক লম্বা চিংড়ি জাতীয় একটা প্রাণী -- যার বিরাট দাঁড়াগুলো প্লাস্টিকের ব্যান্ড দিয়ে বাঁধা না থাকলে মেয়েটির হাসি বহু আগেই মিলিয়ে যেত। মোক্ষম বিজ্ঞাপন। লবস্টার অতি সুস্বাদু জিনিস, তার উপর বেশ দামী, আর তার উপর সর্বত্র সহজে পাওয়াও যায় না। বিজ্ঞাপনটির সরল বক্তব্য -- মেইনে আসুন এবং (সস্তায়?) বড় বড় লবস্টার খান।

চারদিনের ছুটিতে অবশেষে মেইনে যাওয়া হল সপ্তাহ দুয়েক আগে। দক্ষিণ দিক থেকে গাড়িতে করে মেইনের সীমান্ত পার হওয়া মাত্র আমাদের প্রথম কাজ ছিল একটি রেস্টুরেন্টে ঢুকে লবস্টার রোল খাওয়া। চমত্কার লাগল। শক্ত সিয়াবাটা রুটির ওপর হালকা সস দেয়া প্রচুর পরিমাণে ছাড়ানো লবস্টারের মাংস, তাজা। পরের তিন দিনে মেইন হতাশ করেনি -- লবস্টার সহ নানান ধরণের সামুদ্রিক মাছ আমাদের প্রধান খাদ্যে পরিণত হল। সামুদ্রিক খাবার নিউইয়র্ক বা তার আশপাশ পাওয়া যায়না, তা নয়, নিউইয়র্ক নিজেও তো সমুদ্রেরই ধারে। কিন্তু এ খাবার দামী ও কিছুটা দুর্লভ হওয়ায় বেশ আয়োজন করে, খুঁজে বের করে খেতে হয়। মেইনে লবস্টার খাওয়ার জন্য দামী রেস্টুরেন্টে ঢোকার প্রয়োজনই নেই। ঢুকে পড়া যায় রাস্তার ধারের যেকোন "লবস্টার পাউন্ড"-এ -- এবড়ো-খেবড়ো কাঠের দালান, ওপরে লবস্টারের বড় একটা লাল ছবি, সামনে কাঠের ঢাকনা দেয়া বড় বড় হাঁড়িতে জল সিদ্ধ হচ্ছে, তার সামনে খদ্দেরদের জন্য কাঠের চেয়ার-বেঞ্চি পাতা, পাশে মাছের জালের মত জাল ঝুলছে। ভেতরে ছড়ানো গামলায় অসংখ্য লবস্টার-কাঁকড়া ধীরে ধীরে নড়ে চড়ে বেড়াচ্ছে অল্প জলে, বললেই এদের একটিকে জালে বেঁধে সিদ্ধ করে এনে সামনে উপস্থিত করা হচ্ছে, সঙ্গে অান্ুসঙ্গিক বলতে কিছুটা গরম গলানো মাখন ছাড়া তেমন কিছু নয়। আর শক্ত দাঁড়া ভাঙার জন্য একটা জাঁতি । দাঁড়া ভাঙার কষ্টটা যাঁরা করতে চাননা তাদের জন্য আগেই ছাড়ানো তাজা মাংস রুটিতে রোল করে এনে দেয়া হচ্ছে তত্ক্ষণাত্।

কাঁকড়ার ছবির লিংক

ওপরের ছবিটি একটি কাঁকড়ার। লবস্টার খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে মুখের স্বাদ বদলাবার জন্য মেইন থেকে চলে আসবার দিন রাস্তার ধারের একটি দোকানে এটিকে আমি গলাধকরণ করি, আমার বোন ও ভগ্নিপতিও সাহায্য করেছে অবশ্য। খেতে গিয়ে দেখি এটির স্বাদ লবস্টারের চেয়ে কম নয় মোটেই, আমার বোন দৌড়ে দোকানের ভেতরে গিয়ে আগে যে দুকেজি লবস্টারের মাংস প্যাকেট করতে বলেছিল, তার সাথে এক কেজি কাঁকড়া যোগ করতে বলে দিল। পাতলা ফোমের একটা বালতিতে বরফ ঢেলে তার উপর এসব মাংস রেখে তবে আনতে হয়েছে তাজা রাখবার জন্য, কিন্তু আসবার পর থেকে দিন কয়েক টানা কাঁকড়ার রোল খেয়ে পুরো কষ্টটাই সার্থক মনে হয়েছে।

said 4 months ago Report Abuse · Permalink · 2 Comments

মোবি ডিক

ঠিক মনে করতে পারছিনা কেন, হঠাত্ ঠিক করলাম হারমান মেলভিলের লেখা পড়তে হবে। খোঁজ নিয়ে দেখলাম তার প্রধান উপন্যাস দুটি -- মোবি ডিক, আর বিলি বাড, নাবিক। ঠিক করলাম প্রথমে বিলি বাড পড়ব। এর একটা কারণ এই যে উপন্যাসটি সংক্ষিপ্ততর, মোবি ডিকের ৫০০ পাতার মেদ হজম করাটি কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে হচ্ছিল। বিলি বাড অনেক ছোট, উপন্যাসিকা বললেই হয়।
এই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে প্রত্যেকদিন বিলি বাড খুলে নিতাম বিছানায় শুয়ে, ঘন্টাখানেকের ধস্তাধস্তিতে তিন চার অনুচ্ছেদ পড়তাম, মাথায় কিছুই প্রবেশ করত না -- এবং অতিদীর্ঘ গসাগু কষবার সময় যেভাবে খাতার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দাগ ও সংখ্যা ক্রমশ-হ্রস্ব হতে হতে মিলিয়ে যায়, আমার উত্সাহও একই প্রক্রিয়ায় খাট হতে থাকল। যে সংকলনের অংশ ছিল উপন্যাসটি, অনেক কষ্টে সেখান থেকে একটি ছোট গল্প পড়ে নিজের মেলভিল অাগ্রহের সলিল সমাধি দিলাম।
যেটা করা উচিত ছিল, সেটাই করা শুরু করলাম কিছুদিন আগে। মোবি ডিক পড়া শুরু করলাম। মোবি ডিক মেলভিলের প্রধান উপন্যাস, এবং মার্কিন সাহিত্যের মহত্তম মাস্টারপীস-গুলির মধ্যে গণ্য। অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী। তিমি মেরে তার তেল বের করে বিক্রি করাটি কয়েক শত বছর যাবত একটা বিরাট ব্যবসা ছিল। ম্যাসাচুসেটস-এর উপকূল থেকে একটি তিমি ধরা জাহাজ এই একই কারণে রওনা দেয়, কিন্তু রওনা দেয়ার পর জাহাজের নাবিক ও শিকারীরা জানতে পারে যে এই যাত্রার উদ্দেশ্যটি একটু ভিন্ন। মোবি ডিক নামে পরিচিত বিশালায়তন, হিংস্র ও অসাধারণ বুদ্ধিমান একটি বিশেষ তিমিকে মারাটাই এই যাত্রার লক্ষ্য, কারণ জাহাজের ক্যপ্টেন এহ্যাব এর আগের এক যাত্রায় এই তিমির হাতে তার পা, কিছু সহযাত্রী এবং মান-সম্মান খুইয়েছেন। সারা পৃথিবীর মহাসাগরগুলিতে ঘুরে এহ্যাবের জাহাজ খুঁজে বেড়াতে থাকে মোবি ডিককে, আর মাঝে মাঝে তাদের দেখা হয় সেই তিমির হাতে পরাজিত অন্য জাহাজের বিষন্ন নাবিকদের সাথে। ভয়ংকর টেনশন! টেনশন আরো বেশি, কারণ মোবি ডিক সুবিখ্যাত হলেও শিকারীরাও কম নয়, জাহাজের অসাধারণ হারপুন ক্ষেপকদের সাথে মেলভিল আমাদের খুব ভাল ভাবেই পরিচয় করিয়ে দেন।
শেষ সীনে কি হয়, সেটা অবশ্যই এখানে বলছিনা। তবে বইটি আবার পড়বার প্রয়োজন বোধ করছি। আমার বদভ্যাস আছে, গোয়েন্দা কাহিনী বা অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী প্রথমবার ঠিক রসিয়ে রসিয়ে পড়তে পারিনা -- বাসে করে দীর্ঘ যাত্রার পর অনেকক্ষণ চেপে রাখা যাত্রী যেভাবে হালকা হওয়ার জন্য ছুটতে থাকেন, কাহিনীর শেষ জানবার জন্য কিছুটা সেভাবেই অগ্রপশ্চাত না তাকিয়ে এগোতে থাকি। মোবি ডিক তার অ্যাডভেঞ্চার-আবহ সত্বেও সূক্ষ্ম ব্যাপার, অন্তত আরেকবার না পড়লে চলবে না।
উল্লেখ্য, বিলি বাডের যে সমস্যা, মোবি ডিকেও সেটা রয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর ইংরেজী গদ্য কঠিন, এবং অতি দীর্ঘ বাক্যে আকীর্ণ, কিন্তু আমার (অল্প) অভিজ্ঞতায় মেলভিলের মত আর কিছুই নয়। তবে মোবি ডিকের করলা খেয়ে সুবিধে হয়েছে, বিলি বাডের নিম আর ততটা অসহ্য মনে হচ্ছেনা। পরশুদিন থেকে আবার ধরেছি বিলি বাড, পাঁচ পাতা পড়েছি।

said 4 months ago Report Abuse · Permalink · 0 Comments